|
||
|
কে এম রাসেল (জন্ম: ২৮ আগষ্ট, ১৯৯৮) বরিশাল বিভাগের ইন্দুরকানী থানার রামচন্দ্ররপুর গ্রামে জন্ম আমার। পিতা মোঃ আলি হোসেন খানঁ। খাঁন বংশের বংশধর আমি। আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা খুলনা শহরের অধিবাসী। কিন্তু আমার জন্ম আমার এই নানু বাড়ির ছোট্ট গ্রামটিতে। অনেক আদরের নাতি ছিলাম আমার নানু এবং দাদুর। জন্মের পর থেকেই আমি শহরের আবহাওয়া গায় লাগিয়ে বড় হয়েছি। শহরের আবহাওয়া,সংস্কৃতি,আচার-আচরন,চাল-চলন আমার জন্মগত গ্রহনীয় শিক্ষা। পর্যায়ক্রমে পথ চলতে চলতে বড় হওয়া। ওখানের বন্ধুদের সাথে খানিক পরিচয় বহন। আমি অনেকটা এক ঘেয়েমি একাকিত্ততা আমার ভীষন পছন্দিত। ছোটবেলা থেকেই মায়ের ইচ্ছা আমাকে মাদ্রাসার শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। সেই উদ্দেশ্যেই মসজিদের মক্তবে ভর্তি করে দেয়া হয়। আমি ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিলাম সে কারনে আমার মাতামহকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়নি আমাকে প্রাইমারি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সময় গড়িয়ে যাবার সাথে সাথেই আমার বেড়ে ওটা। মক্তবের পাশাপাশি আমাকে চাঁনমারী মতিয়াখালি নামক একটা বিদ্যালয়ে ভর্তি করার চেষ্ঠা করা হয়। স্বল্প আসন সংখ্যার কারনে আমাকে অন্য একটা আহম্মদিয়া নামক স্কুলে প্রথম শ্রেনিতে ভর্তি করা হয়। বৎসর খানিক পড়াশুনা করে পরে আমার মাতামহ আমাকে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্য আহম্মদিয়া নামক একটা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়। সেখানেই আমার তৃতীয় শ্রেনি পর্যন্ত অধ্যায়ন করা হয়। বেশ কিছুদিনেই আমার কিছু। বন্ধুদের সাথে পরিচয় হওয়া। তাদের বিদায় দিয়ে আমার জীবনের আরেকটা ধাপ অতিক্রম করেছি গ্রামাঞ্চলে বসবাস। গ্রামের জীবনটা শহরের থেকে অনেকটা আলাদা হলেও এটা একটা চমৎকার অনুভুতিসম্পন্ন জীবন। গ্রামের মাটিতে আবার নতুন ভাবে বেড়ে ওঠা। নতুন সঙ্গী-সাথীদের সাথে পরিচিত হওয়া সেই অন্যরকম অনুভূতি। আমার সেই একাকিত্ব থাকার পছন্দটা আজও নিজের মাজে বিদ্যমান। নতুন ভাবে চলছে আমার জীবন তার নিজ গতিতে। চলছে চলছে চলতেই থাকবে সেই অচেনা পথ না চেনা অব্ধি।
আমি কে,এম রাসেল সন্তান মোঃ আলি হোসেন খাঁন। দৌহিত্র জয়নাল আবেদিন খাঁন। ভ্রাতৃদ্বয়ের মধ্যে আমি চতুর্থ স্থানে রয়েছি। আমার দাদুর সন্তানদ্বয়ের সংখ্যা বাবা-কাকা ৬ এবং ফুফি ৪। আমার গত দশ বৎস পূর্বের ঠিকানা খুলনা বিভাগের চাঁনমারী বাজার নামাক এক স্থানে। সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আমার নতুন নিবাস গ্রামে। মানে আমার দাদুর বাড়িতে। আমার নানু বাড়ি পিরোজপুর জেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। নানুর নাম মৃত জামির মুন্সি। আমার মামাদ্বয়ের সংখ্যা দুই জীবিত মৃত দুই। আর তার বোনদ্বয়ের মধ্যে একমাত্র আমার মা। তারমানে খুব আদরের ভাগিনা আমি। আমি যখন ক্লাসে প্রথম শ্রেনি থেকে তৃতীয় শ্রেনিতে পড়ি তখন আমার যে বন্ধুদ্বয়ের সাথে পরিচয় আলামিন,আজম, শফিকুল,রবিউল, নাজমুল ইত্যাদি। যখন আমি চতুর্থ শ্রেনি থেকে দশম শ্রেনিতে পরি তখন যারা আমার বন্ধু হয় আলামিন,নাজিম, ফাইজুল,রবিউল,তরিকুল,সাদিকুল,আসাদুল,নিজাম,মিজান, রেজাউল,রহমান আবদুল্লাহ ইত্যাদি। যখন আমি ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি তখন কিছু পরিচিত বন্ধু সাথে ছিল। তাদেরকে ওভার টেইক করে আমি আর নাজিম উপরে উঠে গেলাম। আমি ১০ নং হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের গোদাড়া নামক গ্রামে বর্তমানে বসবাস করছি। বলতে পারেন এটাই আমার স্থায়ি ঠিকানা। ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে আমি মোড়েলগঞ্জ থানার সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ নামক একটা সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা সাহিত্য নিয়ে বর্তমানে অধ্যায়নরত রয়েছি। পূর্বেই আমি এই কলেজ থেকে আইএ ডিগ্রি নিয়েছিলাম। এখন এই কলেজ থেকে ২০২২ সালে বিএ অনার্স ডিগ্রি নিয়ে কলেজ স্থানান্তরিত হব বলে আশাবাদি। এই লক্ষ্য নিয়ে আমি পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছি। সবার কাছে আমি দোয়া প্রার্থী। মন খুলে দোয়া করবেন এই চেনামুখ আপনার ভাই,ভাইপো বা সন্তান তুল্য।
আমি নিজেকে অতি সাধারন একটা মানুষ বলে মনে করছি। সর্বদা একাকিত্বতা অবলম্বন করে চলি। সমাজের যত হয়রানী,রাহাজানি, আড্ডাবাজি এড়িয়ে চলি। আমি আমার নিজের পথ একাই চলতে ভালোবাসি। বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি সহ সব ধরনের অস্থিরতা এডিয়ে চলি। আমি আমার মতাদর্শে বিশ্বাসি। নিজের গতিতে আমি প্রতিটা স্টেপ বাই স্টেপ চলি। কিছুনা ভিন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করি। সমাজের লোক নিন্দা সহ বিভিন্ন কলঙ্ক জনিত কর্মকান্ডের ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি পরিবারের মতাদর্শে বিশ্বাসী। প্রতিটা ধাপ আমি অতিক্রম করি নিজস্ব গতিতে নিজস্ব চিন্তাধারায়। মানুষটা দারিদ্র হলেও আমার সর্বদিকের চিন্তাধারা ভিন্নতা বজায় রেখে চলি। আমার কিছু লক্ষ্য রয়েছে যেমনি সকলের থাকে। এটাই আমার জীবনের ছোট্ট একটা গল্পের স্ক্রিপ। আমি মানুষটা যেমনি হই না কেন আমার চিন্তাধারা সবকিছুই আমার পরিপন্থি। আমার চিন্তাধারার ক্ষেত্রে কিছুটক পরিবর্তন হতে পারে অন্যদের থেকে তবে আমার হিসাব নিজ গতিতেই অব্যাহত থাকবে। দেশকে ভালোবাসা,দেশের মানুষকে ভালোবাসা যেমনি ঈমানের অঙ্গ,তেমনি সেই সূত্র ধরেই আমি সবাইকে শ্রদ্ধাসূচক দৃষ্টিতে দেখি। আমার ধারনা ভালোবাসা পেতে হলে অবশ্যই ভালোবাসা দিতে হয়। এই লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটা মানুষের জীবনের পথে অগ্রসর হওয়া দরকার কিন্তু আমরা সেটাকে বাঞ্চাল করে চলি। আসলেই এটা উচিৎ নয়। সেটা আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুধাবন করা উচিৎ।"অসৎ সঙ্গ ত্যাগ কর,আলস্য দোষের আ-কর" এই মতাদর্শটাই আমি আমার নিজের জীবনে ফলাবার চেষ্টা করে থাকি হতে পারে একা আংশিক কিংবা ক্ষুদ্র। প্রতিটা মানুষ একটা সুন্দর মন নিয়ে পৃথিবীতে আভির্ভুত হয়। পৃথিবীর পরিবেশ, সঙ্গ দোষ,হয়রানী, রাহাজানিই তাকে বাধ্য করে দেয় অসৎ পথে চলতে। প্রকৃত পক্ষে এই শিক্ষাটা সে কোথা থেকে অন্বেষন করে থাকে। পরিবেশগত সামাজিক আচরন থেকে। তাই আমি প্রতিটি ক্ষেত্রে সঙ্গ দোষ এড়িয়ে চলি। দেখিতে চাই আমি সঙ্গ বিহিত লাইফটা আমার কেমন হয়। হোই কেন আমি পার্থক্য অন্যদের থেকে। সেটা আমার ভাবার বিষয় নয়। সঙ্গ দোষের যে প্রভাব সেটা যেন আমাকে কখনোই গ্রাস করতে না পারে সেই দিকেই আমার দৃঢ় দৃষ্টিক্ষেপ। নিজেকে কিভাবে রিপ্রজেন্ট করবো সেই সিস্টেমটাই আমার অজানা তবুও কিছু কথা না বললেই নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমি আমার নিজস্ব গতিধারায়ই চলি। হতে পারে সে পথ দুঃখ দুর্দশা পূর্ন কিংবা কাতরতার কিছু গ্লানিযুক্ত। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে আমি সাধ্যমত অন্বেষনের চেষ্টা করে থাকি তাতে যততা সফলতা অর্জন করতে পারিনা কেন। কারন আমার লেখাপড়ার সিস্টেম হতে পারে অনেকের অজানা। তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমার অগ্রগতি নিজস্ব চিন্তাধারা আমাকে বিকসিত করে তুলেছে এবং তুলবে। সেই লক্ষে আমি অগ্রসারিত হয়ে যাব।
আমার শিক্ষা জীবন শুরু হয় খুলনা শহরের চাঁনমারী নামক স্থানের স্কুল থেকে। আমি যখন শিশু শ্রেনিতে ভর্তি হই তখন সালটা ছিল ২০০২। এই সময়টাতেই আমার শিশু জীবনের সূচনা হয়েছে। সাল ২০০৩ এ আমি প্রথম শ্রেনিতে উৎত্তিন্ন হয়ে যখন দ্বিতীয় শ্রেনিতে ভর্তি হব ঠিক তখনই আমার আম্মু আমাকে স্কুল স্থানান্তরিত করে অপর একটা আহম্মদিয়া নামক একটা মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয় একটা বৎসর আমি পিছনে পরেছি এই কারনটাতেই। নতুন জীবন শুরু করলাম মাদ্রাসা জীবন নতুন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সময় অতিবাহিত হতে লাগল। এসে গেল ২০০৭ সাল যখন আমি মাদ্রাসা বিভাগ থেকে তৃতীয় শ্রেনি থেকে চতুর্থ শ্রেনীতে উৎত্তীন্ন হব সেই প্রক্কালে। আমাকে মাদ্রাসা অতিক্রম করতে হয় দ্বিতীয় বারের মতো। কারনটা ছিল আমার নিবাসের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। পল্লিগ্রামে এসে নতুন একটা পরিবেশের সাথে যুক্ত হই আমি। আমাকে ভর্তি করে দেয়া হয় তোফায়েল উদ্দিন সৃতি দাখিল নামক একটা মাদ্রাসায় সেটা মোড়েলগঞ্জ থানার বড়-বাদুড়া গ্রামে অবস্থিত। এখানে আমি চতুর্থ শ্রেনিতে অধ্যায়নের লক্ষ্যে ভর্তি হই। দিন প্রবাহের স্রোতে আমি ২০০৮ সালে পঞ্চম শ্রেনিতে উৎত্তির্ন হই এবং বৃত্তি পরীক্ষা দেই। এভাবেই আমার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ হয়। প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন না করে আমি পর্যায়ক্রমে ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেনিতে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) নামক পরীক্ষা দিয়ে নবম শ্রেনিতে উৎত্তীন্ন হই এবং ২০১৫ সালে দাখিল (এসএসসি) পরীক্ষা দিয়ে মাদ্রাসা জীবন শেষ করে ফেলি। সাল ২০১৫, এই সময়টাতে আমি মানবিক বিভাগে সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল নামক একটা বেসরকারি কলেজে ভর্তি হই। দীর্য দুই বৎসর এখানে অধ্যায়ন করে ২০১৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পরীক্ষা দিয়ে উৎত্তীন্ন হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন শেষ করি। পর্যায়ক্রমে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখায় পূর্ব পরিচিত সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজেই ভর্তি হই বাংলা সাহিত্য নিয়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে। স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে পাড়ি দিচ্ছি সিড়ি আজও যা উক্ত ডিগ্রি অর্জনের বিভিন্ন পর্যায়। অন্য দিকে আমি কারিগরি বিভাগে ২০১৬ সালে কম্পিউটার অফিস এ্যাপ্লিকেশন নামে একটি কোর্স শেষ করে অফিসিয়াল জ্ঞান অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করি। সর্ব লোকের কাছে দোয়াপ্রার্থী আমার লক্ষ্য অর্জনের দীর্ঘ পথ অতিক্রমান্তে।।।
|